এডোয়ার্ড সাইদ ও পশ্চিমের প্রাচ্য দর্শন
বখতিয়ার আহমেদ সম্পাদকীয় মন্তব্য: নৃবিজ্ঞানী বখতিয়ার আহমেদের এই নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে, দৈনিক যুগান্তরে। ২০১৪ সালে একটি ছোট ভূমিকাসমেত তিনি তার ফেসবুক নোটে লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করেন। বর্তমান লেখাটি...
বখতিয়ার আহমেদ সম্পাদকীয় মন্তব্য: নৃবিজ্ঞানী বখতিয়ার আহমেদের এই নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে, দৈনিক যুগান্তরে। ২০১৪ সালে একটি ছোট ভূমিকাসমেত তিনি তার ফেসবুক নোটে লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করেন। বর্তমান লেখাটি...
তবে যাই হোক, বাইবেল হাজির করে ইতিহাসকে এভাবে মেটাফোরিকালি পাঠ করে বর্তমান বোঝার চেষ্টা করার একটা ঝামেলাও আছে। কারণ সর্বোপরি আমাদের তো কোনো মেসিয়ানিক উদ্ধারকারীও এইমুহূর্তে হাজির নাই এইখানে- যে কিনা আমাদেরকে এই উন্নয়নের ফ্যাসীবাদ থেকে প্রাণে বাঁচাবে! তবে আমাদের এই সময়ে ফারাও রাজার মত কেউ আছে কিনা সেটা নিশ্চিত নই!
বাংলাদেশ আজ এক দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে। একটা অসুস্থ সমাজের অসুস্থতাগুলোরও একটা সাধারণ ভারসাম্য থাকে। অসুস্থতার সেই ভারসাম্য নিয়ে সেই সমাজটা ধুঁকে ধুঁকে হলেও একরকমভাবে চলতে থাকে। কিন্তু ইতিবাচকতার রাজনীতি আজ জন্মপ্রতিবন্ধী বাংলাদেশের সকল অসুস্থতার ভারসাম্যও ভেঙে ফেলেছে। এ এক অভাবনীয় কাল!
কিন্তু আজ যখন নির্যাতিত মানুষজনকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে আমাদের, তখন সেই আমরাই নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দ্বিধা করছি না। আমরা যেই মানবিক চেতনায় বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে স্বাগত জানিয়ে অনুপম নজির সৃষ্টি করেছিলাম, আসুন আমরা সেই চেতনাকে বিনষ্ট না করি।
হাবিবুর রহমান সামন্ততন্ত্রকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যেমন সামন্ততন্ত্র মূলত ভূমিকেন্দ্রিক এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পরিবর্তে স্থানীয় ভূস্বামীদের মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক...
জাতিত্ববোধের ইতিহাসে একুশকে ঘিরে আমাদের অনুধাবন যাই হোক না কেন, আন্তর্জাতিকতায় অভিষিক্ত হওয়ার পরে, একুশের উত্তরাধিকারী জাতিটিরই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব বর্তায় নিজের জাতিরাষ্ট্রের পরিসরে তাবৎ সাংস্কৃতিক জাতিস্বত্ত্বার ভাষা ও জাতিসত্ত্বাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করবার। একুশের চেতনার এমনতর উপলব্ধি উপযোগবাদীতা হলেও ক্ষতি কিছু নেই, কারণ ভুবনগাঁয়ের বিশ্বমানবের আবির্ভাবের লক্ষ্যে যে মানবিক রাজনীতি, তাকে সমর্থন যোগানোটা এই উপলব্ধির ইপ্সিত উপযোগই বটে।
মদিনার লেখকের এই উপলব্ধিগুলো মূল্যবান; এবং আমরা এই উপলব্ধিগুলো বিচার করে দেখতে আগ্রহী। কারণ, এই উপলব্ধিগুলোর বিচার জর্জো আগামবেন কিংবা পারভেজ আলমকে ছাপিয়ে জীবন ও রাজনীতির এক জটিল অথচ বাস্তব দুনিয়া আমাদের সামনে মেলে ধরে, যেখানে আমরা প্রত্যেক 'আধুনিক মানুষ' নিজেকে দেখতে পারব।। বর্তমান প্রবন্ধ সেই দুনিয়ারই বিচার।
স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে সংবিধানের অধীনে দেশ পরিচালিত হচ্ছে তা মূলত বাহাত্তরের সংবিধান। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইনী ডক্যুমেণ্ট হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের তার সংবিধান বুঝে নেওয়ার অধিকার ও প্রয়োজন রয়েছে। এই সংবিধানের আওতায় মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব কিনা, বা সম্ভব হলে তা কিভাবে—এই লেখায় তা আমরা দেখার-বোঝার চেষ্টা করবো।
মনুষ্য–স্বাধীনতার প্রকৃতিপ্রদত্ত স্পৃহা যার অনুভূতি ও চিন্তনে স্বভাবত ক্রিয়াশীল নয়, তার জন্য ‘নৈরাজ্যবাদ’ ইতিহাস বইয়ের একটা নাম মাত্র। এই ধরনের মানুষদের একটা বিরাট অংশ নৈরাজ্যের নাম শুনলে বিরক্তিতে বমি করার উদ্যোগ নেন, আরেকটা বিরাট অংশ নৈরাজ্যের নাম শুনলেই আনন্দে গদগদ হয়ে ওঠেন যেন সারাক্ষণ ‘নৈরাজ্য’ ‘নৈরাজ্য’ করলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর স্বাধীনতা ও সাম্যের বৃষ্টিধারা নেমে আসবে অঝোরে।
আমাদের বাংলায় এ অঞ্চলের সাথে মিল রেখে নগরসমস্যার সমাধানগুলি আমাদেরকেই বের করে আনতে হবে। একইভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন যে নগরসমস্যা গ্রামীণ অঞ্চলের সমস্যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শহরকে আলাভাবে চিন্তা না করে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে হবে।