মারসেল মস্-এর “উপহার”: বাজার অর্থনীতি ধারণার প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ

বাজার অর্থনীতিতে এটি সম্পূর্ণ বিপরীত একটি ধারণা। লেনদেনগুলো এখানে নিছক প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হাতে পাওয়ার পথ মাত্র; আদর্শগতভাবে ক্রেতা ও বিক্রেতার ব্যক্তিগত গুণাবলী এখানে সম্পূর্ণভাবে প্রাসঙ্গিক। ফলশ্রুতিতে সবকিছু, এমনকি মানুষও এখানে নিজেকে একটি পণ্য ভাবতে শুরু করে (যেমন, “পণ্য ও সেবা” এর ধারণা)।

উপস্থাপনায় সার্বভৌমত্ব : বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী চলচ্চিত্র

এই সিনেমাগুলো তাদের নিজেদের মনে করিয়ে দেয় যে, তারা অন্য একটি হোমোজেনাস কালচারের প্রবলে সৃষ্ট প্রান্তিকতায় বেমানান কিছু নন- সেই সাথে এটাও মনে করিয়ে দেয় যে, তারা এই দেশেই বাস করেন, যেকথা ‘মেঘের অনেক রঙ’ সিনেমাতে মাথিনকেও বলতে দেখা যায়। বাংলাদেশের ফোর্থ সিনেমাকে প্রতিনিধিত্ব করা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সিনেমা সবাইকেই মনে করিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ যে বৈচিত্র্যতা তা উদযাপন ন্যায়-সমর্থ।

প্রগতিশীলতা বনাম মৌলবাদ: বাংলাদেশের ‘বাইনারি’ রাজনীতি

সমস্যা হিসেবে বৈষম্যের ব্যপ্তি এবং শেকড় এত গভীরে যে এর কারন সুনির্দিষ্ট করতে থাকলে আসলে আরো কয়েক স্তর নীচে যাবে। এখন মোদ্দা কথায় আসি। মানে আমি যখন বিদ্যমান সমস্যা হিসেবে বৈষম্যকে চিহ্নিত করলাম তখন আমি তার কারনগুলো র্নিমূল করার চেষ্টা করব। আমার রাজনৈতিক বয়ান তখন সব ধরনের বৈষম্যের পিছনে কারনগুলোকে চিহ্নিত করে তাকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করবে। আমার রাজনৈতিক বযানও ওইভাবে সাজানো হবে।

দুর্নীতির নীতিপত্র: বাংলাদেশ বাস্তবচিত্র

রাজনৈতিক দুর্নীতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে তাত্ত্বিকরা ধাঁধায় আছেন। একজন তাত্ত্বিক উন্নয়ন ও দুর্নীতির দ্বৈত অবস্থান দ্বৈধতার কথা বলছেন। (এম.খান: ২০১৭) উদাহরন হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগ ও পরে দেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কথা বলা যায়। সম্ভবত গোটা বিশ^ বাজারে এতো অধিক অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের উন্নয়ন সাধিত হয়নি।

কাঠামোগত গণহত্যা : আশুলিয়ার নিওলিবারেল নরক-কুণ্ড

বাংলাদেশে নিওলিবারেলিজমের প্রধান দুই এজেন্ট হচ্ছে অর্থনীতির ক্ষেত্রে রপ্তানি খাত আর সামাজিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণ। রাজনীতির ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার বিরোধী কোন রাজনৈতিক শক্তি সাম্রাজ্যের সমর্থন পাবে না। মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে নিওলিবারেল বিশ্বের কেন্দ্রের কোন রাষ্ট্র নয়, প্রান্তিক রাষ্ট্র। বৈশ্বিক নিওলিবারেল অর্থনীতিতে তার ভূমিকা মহাজনের নয়, মক্কেলের। ফলে কি রাজনীতি কি অর্থনীতি, সবখানেই তার নব্য-উদারীকরনের প্রকৃতি আর ফলাফলের একটা ভিন্ন চেহারা আছে।

মানুষের ভালোত্বে বিশ্বাস করা একটি বৈপ্লবিক কাজ : রুটগার ব্রেগম্যান

মানুষকে স্বার্থপর ভাবার প্রবণতা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে প্রবল। প্রাচীন গ্রীক থেকে শুরু করে, গোঁড়া খ্রিস্টান, এমনকি এনলাইটমেন্টের দার্শনিকদের মাঝেও এটি দেখা যায়। অবশ্য খুব অল্প হলেও সেখানেও কিছু ব্যতিক্রম ছিল। ১৯ শতকের এনার্কিস্ট পিটার ত্রপোৎকিনের কথাই ধরুণ, তিনি মানুষের ভালোত্বে বিশ্বসা করতেন, এবং অবশ্যই এধরণের মানুষকে তাদের এমন ভয়ংকর চিন্তার জন্য নিগৃহীত হতে হত কেননা উপরতলার মানুষেরা বুঝতে পেরেছিলেন মানবপ্রকৃতির এমন আশাবাদী চরিত্রের ফলাফল কি হতে পারে।

ধর্ষণের ক্ষমতা বিন্যাস

ধর্ষণকারী বা যৌন সন্ত্রাসীর ক্ষমতায়ণ নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে ধারণাগতভাবে ধর্ষণ কী সেটা বোঝা প্রয়োজন। এরপর একজন পুরুষ কখন, কেন ও কোন নিয়ামকের কারণে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ষক হয়ে ওঠে, সেই আলোচনাটি সামনে আনা প্রয়োজন।

কারাগার ও পিতৃতন্ত্র

পিতৃতন্ত্র নামের এই কারাগারটা ভেঙে ফেলা দরকার। তাতে নারীরা যেমন মুক্তি পাবে বন্দিত্ব থেকে, পুরুষরাও তেমনি মুক্তি পাবে রক্ষা করার দায় ও ভার থেকে। নারীপুরুষের সম্পর্কটা সত্যিকার অর্থে মানবিক হয়ে উঠবে, যার ভিত্তি হবে বন্ধুত্ব প্রেম পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যা হবে স্বাধীন।