বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান যে পৃথিবীর ইতিহাসে অত্যুকৃষ্ট, সম্ভাব্য প্রায় সকল ভাল ভাল বাক্য এবং প্রতিশ্রুতি এখানে অকাতরে উপহার দেয়া আছে, এবং এর গূরুত্ব নিয়েও প্রচুর লেখা হয়েছে। সংবিধান বিষয়ক অধিকাংশ রচনা পাঠ করলে ধারণা হবে ‘৭২ সালের আদি সংবিধান থেকে বিচ্যুত হবার কারণেই বাংলাদেশের বর্তমান নিয়তি।
দুই-দুইবার দেশ স্বাধীন করার পরও কেন একটা স্বাধীন রাষ্ট্র এখনো গড়ে তোলা গেল না, সে বিষয়ে আমাদের রাষ্ট্রনৈতিক চেতনাকে এখনো যে প্রায় বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী পর্যায়ে আটকে রাখা গেছে, তার মূল চাবিকাঠিটা এইখানে।
রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় দুটিই প্রতিষ্ঠান। একটির সাথে আরেকটির গভীর মিল ও নির্ভরতা আছে। বাংলাদেশে দুটির অবস্থাই করুণ। এ প্রবন্ধে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পঞ্চাশ বছর আর বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ বছর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের একটা সম্পর্ক ও সম্ভাবনা বিশ্লেষিত হয়েছে।
আলোচকবৃন্দ করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে যে সঙ্কটগুলো দেখা যাচ্ছে তার সুলুকসন্ধান করেছেন, পাশপাশি আসন্ন অর্থনৈতিক ক্রাইসিসকে মোকাবিলা করার উপর জোর দিয়েছেন। তারা বলছেন, কেবল ত্রান দিয়েই এই সংকটকে মোকাবিলা করা যাবে না, ত্রান কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিত্রানের উপায়ও খুঁজতে হবে। করোনা পরবর্তী রাষ্ট্রের চরিত্র যেন ইনক্লুসিভ হয় সেদিকে নজর রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রম ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই আর্টিকেলে তিনি দেখিয়েছেন মানুষের সামনে যদি ভালো–মন্দ বাছাই এর উন্মুক্ত সুযোগ থাকে, তাহলে মানুষ নিজ স্বার্থেই পরিস্থিতি অনুযায়ী ভূমিকা পালন করে এবং সার্ভেইলেন্সের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত করোনা ভাইরাসের মতো সংকট মোকাবেলা করা, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন–যাপন নিয়ন্ত্রণ করা নয়। মানুষ যেন চাইলেই প্রয়োজনে সার্ভেইলেন্স সিস্টেম থেকে বের হয়ে আসতে পারে সেরকম ব্যবস্থাও থাকা উচিত।
আমরা যারা প্রগতিশীল তারা বরাবরের মতো 'গুজব' নিয়ে আতঙ্কে ভুগতেছি। কিন্তু কোন পরিবেশে গুজব হাওয়ার বেগে রটে, কোন পরিবেশ কখন গুজব-উর্বর হয়ে উঠে সে বিষয়ে তারা আলাপ আগে বাড়ান না।
আমি জানি, আমার এই লেখার দুপয়সা দাম নাই। কিন্তু একথাগুলো বলতে হলো, কারণ অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে মানুষকে গালাগাল করছেন ঠিক সেইভাবে যেভাবে ব্রিটিশরা আমাদের করতো, যেভাবে এখনো পশ্চিমরা, আমাদের করে। উদ্বিগ্ন হয়ে একটা ছোট্ট ব্যাপার যাতে না ভুলে যান, আপনি আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে যেভাবে মানুষকে ডিহিউম্যানাইজ করছেন, অন্যজনও তার দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাকে ডিহিউম্যানাইজ করছে। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায় মানুষের ওপর চাপিয়ে মানুষকে ডিহিউম্যানাইজ করাটা অন্তত বন্ধ করি! এই দুর্যোগ আমাদের সবার, ডিহিউম্যানাইজ করে এটা মোকাবিলা সম্ভব না।
সমাজের পরতে পরতে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের যে ভরকেন্দ্রগুলো আছে-- সেগুলো বিশ্বজুড়েই তরুণ-তরুণীদের সামনে ন্যায্যতা নিয়ে থাকতে পারছে না আর। তরুণরা ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের জায়গাগুলোর অন্যায্যতা ও অযৌক্তিকতা চিনে ফেলছে। দুর্নীতিকে শনাক্ত করছে। সেগুলো চ্যালেঞ্জ করছে, কথা বলছে, গান করছে, কবিতা লিখছে, গ্রাফিথি আঁকছে, প্রশ্ন তুলছে, উত্তর খুঁজছে এবং গণতন্ত্র চাইছে-- যে গণতন্ত্র সকলকে মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয়। কিন্তু অনেকের জন্য এ পরিস্থিতি মেনে নেয়া, মানিয়ে নেয়া কষ্টকর। ফলে এসব আঁটকানো চাই। সন্ত্রাসের আবরণে আটকানোর কাজটা সহজ হয়।
লেখক: রাখাল রাহা [লেখকের নোট: এই লেখাটায় যে বানান ব্যবহৃত হয়েছে তা বর্তমান বাংলা প্রমিত বানানের সর্বশেষ রূপ নয়। এখানে যেহেতু ১৯৩৬ সালের কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়...